তাইপে: স্মোক গ্রেনেডের ধোঁয়া আর ধারালো ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হলো তাইওয়ানের রাজধানী তাইপে। শুক্রবার শহরের জনবহুল দুটি মেট্রো স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় এক যুবকের অতর্কিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন নিরীহ নাগরিক। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ঘাতক যুবক একটি ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করলে এই ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪-এ।
ছক কষা আক্রমণ: ধোঁয়া আর ছুরির বিভীষিকা

সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী ওই যুবক মাস্ক পরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। প্রথমে ‘তাইপে মেইন’ স্টেশনে গ্যাসোলিন বোমা ও ধোঁয়া বোমা (স্মোক গ্রেনেড) ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সে। এরপর সাধারণ যাত্রীদের ভিড়ে মিশে ট্রেনযোগে পরবর্তী স্টেশনে পৌঁছায়। সেখানে নেমে আবারও ধোঁয়া বোমা ব্যবহার করে পথচারীদের ওপর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত শুরু করে। একপর্যায়ে যুবকটি একটি দোকানে ঢুকে তাণ্ডব চালায় এবং পরে পুলিশের তাড়া খেয়ে পাশের একটি ভবনের ছাদে উঠে যায়। সেখান থেকে লাফিয়ে পড়ে সে আত্মহনন করে।
কে এই হামলাকারী?
তাইওয়ান পুলিশের আইজি চ্যাং জং-সিন জানিয়েছেন, হামলাকারী এককভাবেই এই নৃশংসতার পরিকল্পনা করেছিল। তদন্তে উঠে এসেছে:
-
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অপরাধের রেকর্ড এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
-
কোনো সুনির্দিষ্ট উসকানি ছাড়াই সে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এই ‘নির্বিচার হামলা’ চালায়।
-
প্রধানমন্ত্রী চো জং-তাই একে একটি সুপরিকল্পিত নাশকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বীরত্বের গল্প ও সরকারি শোক
হামলার সময় এক সাধারণ নাগরিক নিজের জীবন বাজি রেখে ঘাতককে প্রতিহত করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তাইপে মেয়র চিয়াং ওয়ান-আন এই অকুতোভয় ব্যক্তির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি স্মোক গ্রেনেডের বিষাক্ত ধোঁয়ায় বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের কঠোর হুঁশিয়ারি
শনিবার আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান প্রেসিডেন্ট লাই ছিং-তে। এই হামলাকে ‘জঘন্য ও কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।” তিনি অবিলম্বে মেট্রো ও রেল স্টেশনগুলোতে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীকে উন্নত সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।