আন্তর্জাতিক ডেস্ক | জেনেভা ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে চলমান সংকটের বরফ গলতে শুরু করেছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় প্রধান ‘নির্দেশনামূলক নীতি’ (Guiding Principles) নিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
আলোচনার বর্তমান পরিস্থিতি
আজ মঙ্গলবার আলোচনা শেষে ইরানি গণমাধ্যমকে আব্বাস আরাকচি বলেন, “আমরা মূল নীতিগুলোর বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছি। তবে
এর অর্থ এই নয় যে খুব দ্রুতই চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে যাবে। তবে একটি ইতিবাচক পথচলা শুরু হয়েছে, যেখানে এখনো অনেক কাজ বাকি।”
রণক্ষেত্রে ওলটপালট: হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা
একদিকে যখন জেনেভায় টেবিল বৈঠক চলছে, অন্যদিকে তখন পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা তুঙ্গে। আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে ইরান ঘোষণা দেয় যে, তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে। ইরানের এলিট ফোর্স রিভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) সেখানে সামরিক মহড়া চালানোর কারণে ‘নিরাপত্তা সতর্কতার’ অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর আগে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, আক্রান্ত হলে তারা এই প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
ট্রাম্পের ‘সরকার পরিবর্তন’ বনাম খামেনির হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ইতিমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ বহর (Battle Force) পাঠিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, তেহরানে ‘সরকার পরিবর্তন’ (Regime Change) হওয়াই হবে সবচেয়ে ভালো সমাধান।
এর জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আজ মঙ্গলবার কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইরান সরকারকে উৎখাত করার যেকোনো মার্কিন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।”
এক নজরে সংবাদের মূল পয়েন্ট:
-
সমঝোতা: পরমাণু আলোচনার মূল নীতিতে একমত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
-
সামরিক মহড়া: হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক ড্রিল ও সাময়িক পথ বন্ধ।
-
মার্কিন চাপ: পারস্য উপসাগরে মার্কিন রণতরীর উপস্থিতি এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা বজায়।
-
রাজনৈতিক অবস্থান: ট্রাম্পের সরকার পরিবর্তনের আহ্বানের বিপরীতে খামেনির অনমনীয় মনোভাব।
