চীন বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সংলাপ, উচ্চপর্যায়ের সফর এবং সামরিক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের চীন সফর এবং দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন রাষ্ট্রদূত।
সাংবাদিকরা সম্ভাব্য জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াও ওয়েন বলেন, নির্দিষ্ট কোনো প্রতিরক্ষা ক্রয় বা আলোচনাধীন প্রকল্প সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও চীন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত হলে প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধিও বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে যৌথ ঘোষণায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বজায় রাখা সব দেশের যৌথ দায়িত্ব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীন এসব বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ থেকে ২৬ জুন বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চীন সফর করে। ওই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্র: চীনা দূতাবাসের সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বক্তব্য; তথ্য যাচাইয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রকাশিত প্রতিবেদন।