AI দিয়ে তৈরি ছবি
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বৃহস্পতিবার ভোররাতে রাশিয়া ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং প্রায় ৯০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশু ও জরুরি সেবাকর্মীরাও রয়েছেন।
হামলার পর রাজধানীর একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। হতাহতের ঘটনায় শুক্রবার কিয়েভে শোক দিবস ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো বলেন, রাতের আঁধারে রাজধানীকে লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, হামলায় ব্যবহৃত অধিকাংশ আকাশযান প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো এবং কয়েকটি বিমানবন্দর। মস্কোর দাবি, রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনও জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার নিজনি নভগোরোদ অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রুশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
হামলার পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস রাশিয়ার সামরিক শিল্পকে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা দুই দেশের চলমান যুদ্ধকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের প্রকাশিত তথ্য।