ডেঙ্গু প্রতিরোধে উলবাকিয়া প্রযুক্তি: নতুন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে WHO, ২০২৭ সালে আসতে পারে বৈশ্বিক নির্দেশনা

Spread the love

ছবিঃ এ আই দিয়ে তৈরি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উলবাকিয়া প্রযুক্তি: নতুন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে WHO, ২০২৭ সালে আসতে পারে বৈশ্বিক নির্দেশনা

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উলবাকিয়া (Wolbachia) প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন শুরু করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ প্রযুক্তির কার্যকারিতা, নিরাপত্তা এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সর্বশেষ গবেষণা বিশ্লেষণ করে সদস্য দেশগুলোর জন্য হালনাগাদ, প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।

WHO জানায়, নতুন এই মূল্যায়নের অংশ হিসেবে একটি সিস্টেমেটিক রিভিউ পরিচালিত হবে। এতে উলবাকিয়া-ভিত্তিক জনসংখ্যা প্রতিস্থাপন (Population Replacement) পদ্ধতির মাধ্যমে ডেঙ্গু ও অন্যান্য এডিসবাহিত ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণ কমানোর প্রভাব নিয়ে প্রকাশিত সব গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগের মূল্যায়নের পর প্রকাশিত নতুন গবেষণাও এই পর্যালোচনার আওতায় থাকবে।

শুধু জনসংখ্যা প্রতিস্থাপন নয়, জনসংখ্যা দমন (Population Suppression) পদ্ধতির কার্যকারিতাও মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বাস্তব পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হবে, যাতে দেশগুলো বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

অপারেশনাল গাইডলাইনও তৈরি করছে WHO

প্রযুক্তিটি বাস্তবায়নে আগ্রহী দেশগুলোর জন্য একটি অপারেশনাল ম্যানুয়াল বা বাস্তবায়ন নির্দেশিকাও প্রস্তুত করছে WHO। এতে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা, পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়নের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা থাকবে।

WHO-এর নতুন গাইডলাইন ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ (GDG) ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে হালনাগাদ বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করবে। এরপর সুপারিশ প্রণয়ন, অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষে ২০২৭ সালের শেষ দিকে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হতে পারে। এর পরই চূড়ান্ত হবে অপারেশনাল ম্যানুয়াল।

উলবাকিয়া প্রযুক্তি কী?

উলবাকিয়া একটি প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান অন্তঃকোষীয় ব্যাকটেরিয়া, যা বিশেষ প্রক্রিয়ায় এডিস মশার শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এই ব্যাকটেরিয়া বহনকারী মশার ডেঙ্গু, জিকা, চিকুনগুনিয়া ও ইয়েলো ফিভারের মতো ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে।

এ প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য মশা সম্পূর্ণ নির্মূল করা নয়; বরং এমন একটি মশার জনসংখ্যা গড়ে তোলা, যারা ভাইরাস সংক্রমণে তুলনামূলকভাবে কম সক্ষম।

কেন নতুন মূল্যায়ন?

২০২০ সালে WHO-এর ভেক্টর কন্ট্রোল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ (VCAG) বিভিন্ন দেশে পরিচালিত মাঠপর্যায়ের গবেষণা পর্যালোচনা করে জানায়, উলবাকিয়া-ভিত্তিক জনসংখ্যা প্রতিস্থাপন পদ্ধতি ডেঙ্গু সংক্রমণ কমাতে ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে। এরপর WHO-কে এ প্রযুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে পরিচালিত গবেষণা ও বাস্তবায়ন কর্মসূচি থেকে আরও নতুন তথ্য যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যমান সব বৈজ্ঞানিক প্রমাণ একত্র করে একটি হালনাগাদ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

সদস্য দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

WHO বলছে, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ উলবাকিয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করছে অথবা পরীক্ষামূলকভাবে মূল্যায়ন করছে। তাই একটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, প্রমাণভিত্তিক নির্দেশিকা দেশগুলোর নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ এবং এডিস মশার বিস্তারের কারণে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রচলিত মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পাশাপাশি উলবাকিয়ার মতো নতুন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর ব্যাপক ব্যবহারের আগে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যের উৎস  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

Shathi

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x